May 27, 2026, 10:19 am

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/সূত্র আনন্দবাজার পত্রিকা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ঘিরে নতুন করে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। এর জেরে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার হাকিমপুর সীমান্তে দেশে ফেরার অপেক্ষায় শতাধিক বাংলাদেশির ভিড় জমেছে। নারী-শিশুসহ এসব মানুষ ট্রলি, ব্যাগপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে সীমান্তে অবস্থান করছেন। অনেকেই প্লাস্টিক বিছিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসে বা শুয়ে রয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা— ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কবে বাংলাদেশে ফেরার অনুমতি দেবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল থেকেই হাকিমপুর সীমান্তে এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি চোখে পড়ে। এর আগের দিন সোমবারও একই ধরনের দৃশ্য দেখা যায়। সীমান্তসংলগ্ন একটি ছাউনিতে প্রায় ১০০ বাংলাদেশি অবস্থান নেন, বাইরে আরও ৩০ থেকে ৪০ জন অপেক্ষা করছিলেন। সীমান্ত পারাপারের ডাকের অপেক্ষায় তারা দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে অবস্থান করছেন।
মূলত পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও সন্দেহভাজন রোহিঙ্গাদের আটকে রাখার জন্য বিভিন্ন জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই এই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রশাসনিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এসব সেন্টারে যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই বা অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগ রয়েছে, তাদের আটক রাখা হবে। এই সিদ্ধান্তের পর বহু বাংলাদেশি শ্রমজীবী অভিবাসীর মধ্যে গ্রেপ্তার ও আটকের ভয় তৈরি হয়েছে।
ইতোমধ্যে মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলায় কয়েকজনকে আটক করে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে। মালদার ইংরেজবাজারের চন্দনপার্কে গড়ে তোলা শিবিরে ৯ জনকে রাখা হয়েছে, যাদের মধ্যে নারী ও নাবালকও রয়েছে। অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের লালগোলার পদ্মাভবনে প্রথমে তিনজনকে রাখা হলেও পরে আরও ১১ জন বাংলাদেশিকে সেখানে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
সীমান্তে অপেক্ষমাণ ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা মূলত অভাব ও কর্মসংস্থানের সংকটের কারণে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরে কলকাতা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়— বিশেষ করে নিউটাউন, দমদম, ডানকুনিসহ শিল্প ও নির্মাণখাতনির্ভর অঞ্চলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। অনেকেই বছরের পর বছর সেখানে বসবাস করলেও সাম্প্রতিক প্রশাসনিক কড়াকড়ির খবরে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ফলে গ্রেপ্তার হওয়ার আগেই স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রশাসনিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সীমান্তে অবস্থানকারীরা ইতোমধ্যে বিএসএফের কাছে নিজেদের পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। বিএসএফ বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগও করছে। তবে তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া, পরিচয় যাচাই এবং আনুষ্ঠানিক অনুমতির বিষয়টি এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অবৈধ অভিবাসন ইস্যু নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো এবং সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে শ্রমজীবী বাংলাদেশিদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর আগেও ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তখনও উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত দিয়ে বহু বাংলাদেশি ফিরে গিয়েছিলেন।
বর্তমান পরিস্থিতি শুধু সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নয়, বরং দারিদ্র্য, কর্মসংস্থান সংকট এবং অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের মতো বৃহত্তর সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাকেও সামনে এনে দিয়েছে।